কীর্তনখোলা নদীতে সোমবার ঢাকাগামী সুরভী-৭ লঞ্চের সঙ্গে বরিশালগামী পিএস মাহসুদ স্টিমারের সংঘর্ষ এখন পর্যন্ত ৫ জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভোর ৪টার দিকে কীর্তনখোলার চরবাড়িয়ার ঢাকাগামী সুরভি-৭ লঞ্চের সঙ্গে বরিশালগামী পিএস মাহসুদ স্টিমারের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের ৭০০ যাত্রীকে বিকল্প লঞ্চ এমভি মধুমতিতে উঠিয়ে গন্তব্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। আর দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চকে মধ্যে চরবাড়িয়ার লামচড়ি পয়েন্টে নোঙর করিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্টিমার চালক জয়নাল আবেদিন জানান, সুরভি-৭ লঞ্চটি বেপরোয়া গতিতে স্টিমারের বাম দিকে আঘাত করে। এতে উপরের ৪টি কেবিন ও নিচের কিছু অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সুরভী-৭ লঞ্চটি সংকেত না মানার কারণেই স্টিমারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে, স্টিমারের প্যাডেল ভেঙে বিকল হয়ে গেছে আর চারটি কেবিন বিধ্বস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। সুরভী লঞ্চের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নৌনিরাপত্তা বিভাগ জানায়, গতকাল রোববার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আসা সুরভী-৭ লঞ্চটি বরিশাল নৌবন্দরে যাত্রী নামিয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বরিশাল নৌবন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা থেকে আসা পিএস মাসুদ নামে একটি স্টিমারের সঙ্গে লঞ্চটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় স্টিমারের ডেকে থাকা একজন যাত্রী নিহত হন। সংঘর্ষে স্টিমারের বাঁ পাশের প্যাডেল (পাখা) ভেঙে কেবিনের মধ্যে ঢুকে যায়। এতে কেবিনে থাকা চারজন যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন যাত্রী।