রাজধনীর গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার সপ্তাহ না পেরুতেই এবার ঈদের দিনে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহর কাছে বোমা হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।
আর পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের সময় এক হামলাকারীসহ নিহত হয়েছে দুই জন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে সাত জন। পুলিশ দুই হামলাকারীকে আটক করেছে। জড়িত অন্যান্যদের খুঁজছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী।
ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে যৌথবাহিনী তল্লাশি চালিয়েছে। বোমা হামলায় ঈদের জামাতে আতঙ্ক ছড়ালেও তা শেষ হয়েছে নির্বিঘ্নে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা। শোলাকিয়ার ঈদগাহ ময়দানে দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মুসল্লিরা। ঈদগাহের এক কিলোমিটারের মধ্যে আজিমুদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করেই পুলিশের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ছয় থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী। চাপাতি দিয়ে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করে। সেইসঙ্গে গুলি ও হাতবোমার বিস্ফোরণও ঘটায়। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা ওই পুলিশ সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, হামলার জবাবে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে দু'পক্ষের গুলি বিনিময় হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এক হামলাকারী। আরেক হামলাকারী ও সাত পুলিশ সদস্যসহ আহত হয় ১১ জন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো এক পুলিশ সদস্য মারা যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ছয় পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি সময় পাশের একটি বাড়িতে এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী। বিকেল পর্যন্ত চলে অভিযান। পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. নুরুজ্জামান।
সন্ত্রাস দমনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলার সপ্তাহ না পেরুতেই শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের আগে আগে এ হামলায় মুসল্লিসহ এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।