কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ মাঠের কাছে পুলিশের ওপর হামলাকারীরা জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জেএমবির সদস্য জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক।
শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, হামলাকারী আইএস নয় তারা মূলত জেএমবির সদস্য—ঈদগাহ মাঠে বড় ধরনের নাশকতা সংঘটনের জন্যই এ তৎপরতা চালায় তারা। প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে এ হামলায় অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলাকারীদের যোগেযোগ আছে।
‘শোলাকিয়ায় হামলায় যারা আটক হয়েছে, তারা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে যে গুলশানে হামলাকারীদের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা আছে।
মূলত ‘গুলশানে যারা হামলা করেছে, তারাই শোলাকিয়ায় হামলা চালিয়েছে তারা জেএমবি জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা তিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারা এখানে এসেছিল ঈদগাহতে বোমা মেরে মুসল্লিদের হত্যা করার জন্য— পুলিশের বাধার কারণে মাঠে যেতে ব্যর্থ হয়ে ওই জঙ্গিরা পুলিশের ওপর হামলা করে।’
পুলিশ প্রধান বলেন, গুলশানে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জনকে আমরা জেএমবি সদস্য হিসেবে জানি—তাদেরকে অনেক দিন ধরে আটকের চেষ্টা করে করা হচ্ছিল।
আইএসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইএস দেশ-বিদেশে সব হামলার ক্ষেত্রেই দায়িত্ব স্বীকার করে—আইএস কেন হামলার দায় স্বীকার করে এই দাবিটা কাদের মাধ্যমে করে, কেন করে তা উদঘাটনে চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ প্রধান গোলাগুলির সময় নিহত গৃহবধূ ঝর্ণা রাণী ভৌমিকের বাড়িতে যান এবং তার স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।
আইজিপির সঙ্গে ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, কিশোগঞ্জের জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের শোলকি্য়া ঈদগাহ ময়দানের কাছে এক চেক পয়েন্টে পুলিশের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের বেশি কিছুক্ষণ গুলি বিনিময় হয়। হামলায় ২ পুলিশ সদস্যসহ এক নারী নিহত হন। পরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক হামলাকারী নিহত হন।
তার আগের শুক্রবার ঢাকার কূটনীতিকপাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করা হয়।