কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি আরো বেড়েছে—বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি। ত্রাণ না পেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন পানিবন্দি লাখো মানুষ। এদিকে, পানি কমে যাওয়ায় নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ ১৬টি নদীর পানি বেড়েছে। বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। পানি বাড়তে থাকায় জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের এক লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।
এসব এলাকার কাঁচাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্যাদুর্গত এলাকায় এখনো ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছায় মানবেতন জীবনযাপন করছেন পানিবন্দি মানুষ। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বন্যা দুর্গতদের জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল ও চার লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেও তা এখনো বিতরণ করা হয়নি।
এদিকে, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ৭টি চরাঞ্চলের বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। তবে এখনো পানিবন্দি প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ এলাকাকে বন্যা থেকে বাঁচাতে চর খড়িবাড়ি মৌজার জিরো পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বাঁধ নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।