ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছে নতুন নতুন এলাকা।
পানিবন্দি হয়ে দুর্বিসহ দিন পার করছে কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের প্রায় আড়াউ লাখ মানুষ। কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
গত এক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে।
বন্যা দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রাম-যাত্রাপুর পাকা সড়কসহ কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভাঙন দেখা দিয়েছে যাত্রাপুরহাটের তীর রক্ষা বাধে। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
জেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্তদের জন্য ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও ৯৮ মেট্রিক টন চাইল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম্।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সর্বত্রই চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।