টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, জামালপুর, গাইবান্ধা ও সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। অবনতি ঘটেছে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির। নতুন করে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের অভাবে পানিবন্দী মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এদিকে, কুড়িগ্রামের সদর ও নাগেশ্বরীতে বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে আরো ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বেড়ে গিয়ে বিপদসীমার ৮৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা ও দুধকুমারের পানিও। এতে করে কুড়িগ্রাম জেলার বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।
পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ৫ লাখেরও বেশি মানুষ। বন্যা কবলিতদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে নগদ টাকা, চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।
কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি উঠে পড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাঁধ ভেঙে পড়ায় হুমকীর মুখে রয়েছে যাত্রাপুর হাট। বিস্তীর্ণ এলাকায় পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত।
এছাড়া, বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর ও নাগেশ্বরী উপজেলায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, নীলফামারীতেও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন করে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিরও আরো অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি আরো ১৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানিবন্দী ৩০ ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বন্যাত্বদের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৩৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
অপরিবর্তিত রয়েছে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতিও। সুরমার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী দুই লাখেরও বেশি মানুষ। ডুবে গেছে ফসলী জমি।