যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুর, গাইবান্ধা ও শেরপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সম্পূর্ণ বন্যা কবলিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাকে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা। এদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে লালমনিরহাটে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুরের ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ ও সরিষাবাড়ি উপজেলার কমপক্ষে ৪০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন পার করছে।
ব্রহ্মপুত্রের পানি বালাসি পয়েন্ট ও ঘাঘট নদীর পানি ডেভিড কোম্পানিপাড়া পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে জেলা সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়নের বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে শেরপুরে।
সম্পূর্ণ বন্যা কবলিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের রৌমারীকে দুর্যোগপূর্ণ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জেলায় পানিবন্দি ৬ লাখ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ১৫ লাখ টাকা বিতরণ করা হলেও তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছে বানভাসী মানুষ।
তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকটের পাশাপাশি পানিবাহিত নানান রোগ দেখা দিয়েছে।