যমুনা, বহ্মপুত্র, পদ্মা ও আড়িয়াল খা'র পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর ও গাইবাদ্ধার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে গাইবান্ধা ও মাদারীপুরে। তবে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জে একটি সংযোগ সড়কের ৩০মিটার ভেঙে পানির স্রোতে ৪টি বাড়ি ভেসে গেছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে ৫টি গ্রাম।
জেলা সদরের পাঁচগাছিতে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হলেও ৬ লক্ষাধিক বানাভাসি মানুষের অনেকের কাছে তা পৌছায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জামালপুরের ৬টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী। বাড়ি-ঘরে বন্যার পানি ঢুকে যাওয়ায় বাঁধ ও উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে দুর্গতরা।
বন্যার পানিতে রেল লাইন তলিয়ে যাওয়ায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসি তিন লক্ষাধিক মানুষের। শহর রক্ষা বাধ ও রানিগ্রাম বাধ হুমকির মুখে পড়ায় আশপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘ সময় পানির নীচে তলিয়ে থাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের সিংড়িয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩শ মিটার এলাকা ধসে ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি, মালামাল ও গবাদী পশু ভেসে গেছে। ৫০ জনের বেশি মানুষ পানির স্রোতের গোড়ে আটকা পড়ে।
পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
পদ্মা ও আড়িয়ালখা'র পানি বেড়ে মাদারীপুরের শিবচরে ৩ শতাধিক বাড়ি-ঘর, ৩শ হেক্টর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে, তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রাবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।