কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির রোববার আরো অবনতি হয়েছে। নতুন করে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে বানভাসী মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়া হলেও তা অপ্রতুল বলে বন্যার্তদের অভিযোগ। এদিকে, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে লালমনিরহাটে।
তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা নদীর পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জসহ বেশকিছু জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ও সেতু পেয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবারো বেড়েছে তিস্তা নদীর পানি। বানভাসী মানুষ বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গবাদি পশুরও খাদ্য চরম সংকটে পড়েছেন।
গত দুই সপ্তাহে টানা বন্যায় জেলার ৯ উপজেলায় ৫৭ ইউনিয়নের ১ লাখ ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৬ লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বাধ ও পাকা সড়কে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা। ঝড়-বৃষ্টি তাদের দুর্ভোগ আরো প্রকট করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে বন্যার্তদের অভিযোগ।
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসী তিন লক্ষাধিক মানুষের। শহর রক্ষা বাধ ও রানিগ্রাম বাধ হুমকির মুখে পড়ায় আশপাশের এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
দীর্ঘ সময় পানির নীচে তলিয়ে থাকায় বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার কারণে চরাঞ্চলসহ জেলার বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ।
বন্যা ও নদী ভাঙনের বিপর্যয়ে পড়েছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী ১৬টি গ্রামের মানুষ। খাবার পানির সুবিধাসহ সেখানে নেই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সেখানের শুরেশ্বর পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদ সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতি উপজেলায় বন্যা ও নদীভাঙন এলাকার খোঁজ খবর ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
এদিকে, লালমনিরহাটে বন্যার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন রকম ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। অনেকেই পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।