ঠিক একমাস আগে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান এসি রবিউল ইসলাম। সেই এসি রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমার কোল জুড়ে এসেছে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। রোববার দিনগত রাত সোয়া ১২টায় পৃথিবীর আলোতে চোখ মেলে সেই নবজাতক।
চোখেমুখে বেদনা অথচ এ দিনে আনন্দে থাকার কথা ছিলো তার মা ও মেয়ের। মা হয়েছেন উম্মে সালমা। কাকতালীয় হলেও ঠিক এক মাস আগেই হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী হামলায় স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি।
সোমবার সকালে অস্ত্রোপচারের কথা থাকলেও কিছুটা জটিলতা দেখা দেয়ায় দ্রুত অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন প্রসূতিবিদ ডা. কামরুন্নেচ্ছা।
তার অধীনে একদল চিকিৎসক সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথিবীর আলোয় নিয়ে আসেন রবিউলের অনাগত সন্তানকে।
মা মেয়ে দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে মাকে পোস্ট অপারেটিভ বেডে আর কন্যাকে রাখা হয়েছে শিশু নিবিড় পরিচর্যা (এনআইসিইউ) বিভাগে।
সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০১ নম্বর বেডে ভর্তি উম্মে সালমা।
গত মাসের এইদিনেই অন্যদের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন দিয়ে গেছেন স্বামী পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রবিউল ইসলাম।
প্রথম সন্তান সাজিদুল করিমের বয়স (০৭) বছর।
গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ রবিউল করিম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। এছাড়া ১৭ বিদেশিসহ প্রাণ হারান আরো ২০ জন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর মাদক টিমে কর্মরত ছিলেন তিনি। বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের সদস্য রবিউল রেখে গিয়েছিলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সাত বছরের ছেলেকে।
গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের কাটিবাড়িতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি স্কুল খুলেছিলেন রবিউল। নিজ বেতনের টাকা দিয়েই চালাতেন সেই স্কুল। চাকরি পাওয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় ব্লুমস নামের প্রতিবন্ধী শিশুদের স্কুল ছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নজরুল বিদ্যাসিঁড়ি নামের আরেকটি স্কুল।
রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, দেশের জন্য আমার স্বামী আত্মত্যাগ করেছেন। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। এ অভাব পূরণ হওয়ার নয়।
আমর যে সন্তান আজ পৃথিবীতে এসেছে তার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সে যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির জন্য সেবা করতে পারে।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এনামুর রহমান এমপি জানান, আমরা গর্বিত এই পুলিশ সদস্যের আত্মত্যাগে— তার বীরত্বে আমাদের শ্রদ্ধা।
তিনি জানান, রবিউল করিমের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার স্ত্রী ও সন্তানের সব চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।