একবছরে অনেকটাই বদলে গেছে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর চেহারা—চলছে বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ। তবে বাহ্যিক এসব পরিবর্তনের চেয়েও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এখানকার মানুষের আত্মবিশ্বাস।
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে স্বস্তি পাচ্ছেন তারা। গতবছর ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন ছিটমহলগুলো দুদেশের মূল ভুখণ্ডে সংযুক্ত হয়। বিলুপ্তি হয় ছিটমহল।
গতবছরের ৩১ জুলাইয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে একযোগে জ্বলে ওঠে মুক্তির মশাল। ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পায় ছিটের মানুষেরা দূর হয় তাদের আত্মপরিচয় সংকট। ছিটমহল নাম বিলুপ্ত হয়ে মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয় এসব এলাকা্
এরপর সেখানে ধীরে ধীরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার, পুলিশ ক্যাম্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে দেয়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র।
দীর্ঘদিনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া এসব মানুষ রোববার রাত ১২টা এক মিনিটে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে ছিটমহল বিনিময়ের বর্ষপূর্তির কর্মসূচির শুরু করেন।
এখানকার বাসিন্দারা বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়ে খুশি।
মিলাদ মাহফিলের পর দিনভর চলেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলা ধূলাসহ নানা আনন্দ আয়োজন।
পিছিয়ে পড়া এ জনগোষ্ঠীকে দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতের সম্পৃক্ত করতে নানা পদক্ষেপের কথা জানানকুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আকতার হোসেন আজাদ।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সরকারি চাকরিতে সুযোগ সৃষ্টির দাবি পিছিয়ে থাকা এসব বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর।