দেশের উত্তরাঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দক্ষিণাঞ্চলের ভোলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
টানা ৯দিন ধরে ৪০টি গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। সেখানে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাবে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন দুর্গতরা। দৌলতদিয়ায় তিনটি ফেরি ঘাট বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
অব্যাহত জোয়ারের চাপে ভোলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। মেঘনার পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভোলার ৫টি উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রামের মানুষ টানা ৯দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। বেড়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ১০ লাখ টাকা ও ৭০ মেট্রিকটন চাল বিতরণ করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ বানভাসীদের।
পদ্মা নদীর ভাঙন ও পানি বাড়ার ফলে গত কয়েকদিনে এক এক করে দৌলতদিয়ার ১, ২ ও ৪ নং ফেরি ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ৩ নং ফেরি ঘাট দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল করছে। ফলে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ফিডমিল এলাকা পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। এতে দুভোর্গে পড়েছেন যাত্রীরা।
কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও দুর্ভোগে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘরে ফিরতে না পারায় বাঁধ ও পাকা সড়কে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এবারের টানা বন্যায় জেলার ৯ উপজেলায় সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমির বীজতলা, আমন, পটল, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ৬৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
টানা ৪ দিনের ভারি বর্ষণে ও জোয়ারের অতি চাপে পানি বাড়তে থাকায় পিরোজপুরের অর্ধ শতাধিত গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। মঠবাড়িয়া এলাকার বেড়ি বাঁধের ৫ টি পয়েন্টে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ফসলী জমি।
এদিকে, ফরিদপুরে পদ্মার পানি কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। পানি নামতে শুরু করায় বন্যা কবলিতে অনেকেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বন্যার্তদের মধ্যে চাল, নগদ টাকা, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইনসহ অন্যান্য দ্রব্য ত্রাণ হিসেবে দেয়া হচ্ছে।
মাদারীপুরের শিবচর পয়েন্টে পদ্মার পানি কমলেও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে পদ্মা ও আড়িআল খাঁ'র ভাঙন। এর মধ্যেই চারশোরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় দুইশো হেক্টর ফসলী জমি।