দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ উন্নতি ঘটছে— বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ভোলায়। তবে পানীয় জল ও খাদ্য সঙ্কটের পাশপাশি দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। এদিকে, বৈরি আবহাওয়া ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরিঘাট দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ রয়েছে।
আর উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে মংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক বাড়িঘর থেকে এখনও পানি নামেনি। কোনো কোনো জায়গায় পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়িতে অনেকেই এখনো ফিরতে পারছেন না। বাঁধ ও পাকা সড়কে, খোলা আকাশের নীচে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকটে দুর্বিসহ দিন কাটছে তাদের।
এছাড়াও পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বানভাসী মানুষ। বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও কাঁচা ও পাকা সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট এবং বিভিন্ন এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮৬টি মেডিকেল টিম কাজ করলেও অনেক দুর্গম এলাকার মানুষ দেখা পাচ্ছেন না তাদের।
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো কমেনি। জেলার ৭ উপজেলার ৪৫ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি। এরইমধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন।
এদিকে, বন্যার্তদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে বুধবার সকাল থেকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে সকল লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দুই ঘাটে কয়েকশ ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
আর নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ও পদ্মায় তীব্র ভাঙনে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের ২টিই।
ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে দুর্ভোগ উঠেছে চরমে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সর্তকতা দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে।
মেঘমালার প্রভাবে মংলা বন্দরসহ খুলনার বিভাগের প্রায় সর্বত্র মাঝে মাঝেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদী বন্দরে সর্তকতা সংকেত থাকায় পটুয়াখালির অভ্যন্তরীণ নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে নৌ বন্দর কর্তৃপক্ষ।
আবহাওয়া অফিসের এক সংবাদে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেকিয়ে যেতে বলেছে। এসব জেলার দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট অফিক উচ্চতার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।