বন্যার পাশাপাশি এখন নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে রাজবাড়ী ও গাইবান্ধা জেলা— নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও ফসলি জমি। ভাঙনের শিকার হয়ে অনেকই আশ্রয় নিয়েছেন সড়ক বা বাঁধের ওপর। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের তীব্র সংকট।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে এরইমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা ও নয়নসুখের দুইটি গ্রামের তিনশ পরিবারের ভিটেমাটি। জমি-জিরেত হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধে।
শুধু বাঁধ নয়, হুমকির মুখে রয়েছে বাঁধের আশাপাশের এলাকাও। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে বিলীন হয়ে যাবে, মসজিদ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার ঘর-বাড়ি। তাই ভাঙন ঠেকাতে নদীর পাড়ে মাটি ও বালির বস্তা ফেলছেন তারা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ভাঙন রোধে এরইমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বন্যার পানি কমতে শুরু করার পরই আরো হিংস্র হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র। গাইবান্ধার কামারজানিতে তীব্র হয়েছে ভাঙন। জমি-জমা, ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় মানুষ রয়েছেন আতঙ্কে। ক্ষতিগ্রস্থরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের পাইলিং ও বালির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাব-এ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো: সেলিম হোসেন বলেন, কোনো প্রাথমিক পদক্ষেপে এ নদী ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে ভাঙন রোধে এরইমধ্যে ঢাকায় প্রধান দপ্তরে বাধ নিমার্ণের জন্য নকশা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলে স্থায়ীভাবে কাজ শুরু হবে।