জালিয়াতি করে হাজার কোটি টাকার চা বাগান দখলের মামলায় ভারতে সপরিবারে পলাতক রাগীব আলীর নানা কীর্তি একেএকে বেরিয়ে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দানবীর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ধনাঢ্য এ ব্যাক্তি এক সময় ইংল্যান্ডে রেস্তোরাঁ শ্রমিক থেকে মালিক হন রেস্তোরাঁর। দেশে ফিরে জালিয়াতি করে দেবোত্তর সম্পত্তিসহ চা বাগান দখল মার্কেটসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ, তিন শতাধিক অবৈধ প্লট বিক্রি, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার মালিকানা লাভ-- ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সব সময়ই আলোচিত ছিলেন তিনি।
বিতর্কিত রাগীব আলীকে দেশের বাইরে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে জানেন।
জঙ্গি ইস্যুতে আলোচিত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাগীব আলী একসময় ইংল্যান্ডের রেস্টুরেন্টের শ্রমিক ছিলেন। পরে হন রেস্টুরেন্টের মালিক। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে ফিরে হত্যাসহ বিতর্কিতসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আলোচিত হয়ে ওঠেন তিনি।
একপর্যায়ে স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাক নামক পত্রিকার মালিক হয়ে নিজের নামের আগে দানবীর ও প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকসহ বিভিন্ন উপাধি জুড়তে শুরু করেন তিনি। যদিও দেশের বাইরে তাকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবেই জানেন অনেকে।
দেশের শীর্ষ ধনাঢ্য ব্যক্তিদের একজন রাগীব আলীর উত্থান হয় দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান জালিয়াতির দখলের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধে পরিবারের সকল সদস্যকে হারানো মূল সেবায়েতকে তাড়িয়ে দেন তিনি।
আত্মীয়কে ভূয়া সেবায়েত সাজিয়ে তার কাছে থেকে অবৈধভাবে লিজ নেন সিলেটের অন্যতম বৃহৎ তারাপুর চা বাগান আর বাগানের একাংশ ধ্বংস করে নিজের নামে গড়ে তোলেন মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা, বিক্রি করে দেন তিন শতাধিক প্লট।
রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাই-এক রিট আবেদনের পর গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগান প্রকৃত সেবায়েতের কাছে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।
এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অবৈধভাবে নির্মিত সকল স্থাপনা ৬ মাসের মধ্যে সরিয়ে নতুন করে চা বাগান সৃজন এবং বাগান থেকে চা রপ্তানি বাবদ আয়ের ৫ কোটি টাকা সেবায়েতের কাছে ফেরত দেয়াসহ ১৭টি নির্দশেনা দেয়া হয়।
গত ১৫ মে প্রশাসনের উদ্যোগে বাগানের দখল প্রকৃত সেবায়েত, শহীদ পরিবারের একমাত্র জীবিত উত্তরাধিকারী পঙ্কজ কুমার গুপ্তের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তবে দখল বুঝে পেলেও বাগানের সব কাগজপত্র এখনো বুঝে পাননি পঙ্কজ কুমার গুপ্ত।
এদিকে, ২০০৫ সালে এসি ল্যান্ডের দায়ের করা আরেক প্রতারণা মামলার পলাতক আসামি পঙ্কজ কুমার গুপ্ত কিছুদিন আগে দেশ টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে রাগীব আলীল বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগের কথা জানান।
চা বাগানের প্লটের জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন।
বর্তমানে ওই জমির বাজার মূল্য ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতারণার মাধ্যমে ভূ-সম্পত্তি আত্মসাত ও মন্ত্রণালয়ের স্বাক্ষর ও স্মারক জাল করার অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২টি মামলা দায়ের করা হয়। স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলা রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই এবং প্রাতারণার মামলায় রাগীব আলী, তার ছেলে আব্দুল হাই, মেয়ে রোজিনা কাদির, মেয়ের জামাই আব্দুল কাদির, ভূয়া সেবায়েত মোস্তাক মজিদ আর প্রকৃত সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে আসামি করা হয়।
গত ১০ আগস্ট আদালত এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে রাগীব আলী, ছেলে, মেয়ে, জামাতা, ভূয়া সেবায়েত মোস্তাক ও সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তের বিরুদ্ধে প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
১৯৮৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিবের স্বাক্ষর জাল করে ৪২২ একরের ৮০০ কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে নিয়েছিলেন রাগীব আলী।