মৃত্যুই শেষ গন্তব্য হল বানের পানির তোড়ে বাংলাদেশে চলে আসা ভারতীয় বুনো হাতিটির। দেড়মাস ধরে এদিক-ওদিক নানা নদী বয়ে বেড়ানোর পর ডাঙ্গায় তুলে তার নাম দেয়া হয়েছিল ‘বঙ্গবাহাদুর’। তবে তার বন্যতা বশে আনার ধাপে ধাপে নানা কাণ্ডে সে দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন কারণে হাতিটির মৃত্যু ঘটেছে। তার শেষ ঠাঁই ছিল জামালপুরের সরিষাবাড়ীর এক গ্রামে। অতিকায় হাতিটির করুণ মৃত্যুতে গ্রামবাসী চোখের জলে তাদের শোক প্রকাশ করেছে।
গত দেড় মাস ধরে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের চরাঞ্চলে প্রাণচঞ্চল ছিল ভারতের আসাম থেকে বন্যার পানিতে ভেসে আসা বুনো হাতি ‘বঙ্গবাহাদুর’। কখনো পানিতে কখনো আবার ডাঙ্গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল বিশাল আকৃতির এ ঐরাবত।
তবে মঙ্গলবার সকালে জামালপুরের কয়রা গ্রামে থেমে যায় হাতিটির হৃদস্পন্দন। গ্রামের বাইদা বিলে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় শেকলবন্দি বঙ্গবাহাদুরকে।
হাতিটির মৃত্যুর খবর পেয়ে দলে দলে ভীড় করেন কৌতুহলী এলাকাবাসী। নিরীহ প্রাণীটির মৃত্যুতে অনেকেই হয়ে ওঠেন অশ্রুসজল।
বন বিভাগের কর্মীরা বলছেন, মাস দেড়েক ধরে খাদ্যের ঘাটতি, রক্তে গ্লুকোজ কমে যাওয়া, শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পানি স্বল্পতার কারণে হাতিটি দুর্বল হয়ে পড়ে।
আসামের কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের দলছুট এই বুনো হাতিটি বন্যার পানিতে ভেসে গত ২৮ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। প্রায় দেড় মাস ধরে এটি কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, ও জামালপুরের চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
হাতি উদ্ধারে ভারত থেকে আসে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। কিন্তু উদ্ধার করতে না পেরে ফিরে যান তারা।
শুক্রবার চেতনানাশক ওষুধ দেয়ার পর হাতিটিকে শেকলবন্দী করা হয় তবে জ্ঞান ফিরে পেয়েই শেকল ছিঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পরে আবারও তাকে বশে আনা হয়। সোমবার দ্বিতীয় দফায় শেকল ছিঁড়ে ছুটে গেলে আবারও চেতনানাশক দিলে এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে হাতিটি। এরপর আর উঠে দাড়াতে পারেনি সে।
না আসামের কাজিরাঙ্গা, না জামালপুরের কয়রা; শেষপর্যন্ত মৃত্যুই গন্তব্য হল বঙ্গবাহাদুরের।
এদিকে, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তের কূপে পড়ে গিয়েছিল এক বুনো হস্তিশাবক। পরে গ্রামবাসী, বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ উদ্যোগে প্রাণে রক্ষা পায় হাতির শাবকটি। প্রাণীটিকে উদ্ধারের পর ছেড়ে দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী বনে।
সোমবার গভীর রাতে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জের তাওয়াকুচা বিট এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি ভারতীয় হাতির একটি দল সীমান্ত সড়ক অতিক্রম করে তাণ্ডব চালায়।
গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে মশাল ও আগুন জ্বালিয়ে হাতির দলকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। এসময় হাতির একটি শাবক কূপে পড়ে যায়। ভোরে হাতির দল চলে গেলে এলাকাবাসী হস্তি শাবকটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে বন বিভাগ বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দল ও দমকাল বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। পরে মাটি খুড়ে কূপের মুখ বড় করে দড়ি দিয়ে হাতির শাবকটিকে সকলে মিলে উদ্ধার করেন তারা।
উদ্ধারের পর হাতির শাবকটিকে পার্শবর্তী শাল বনে ছেড়ে দেয়া হয়।