চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজারে ডিএপি ইউনিটের পাইপে লিকেজ হয়ে ছড়িয়ে পড়া অ্যামোনিয়া গ্যাসের ঘনত্ব কমে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে, গ্যাসের বিষক্রিয়ার শিকার অর্ধশতাধিক মানুষ কাফকো চিকিৎসা কেন্দ্র ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিয়ে গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ হয়েছে— এ গ্যাসের কারণে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গ্যাসের তীব্রতায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষকে—এ ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের বিষক্রিয়ায় মানুষ সাধারণত মারা যায় না— অসুস্থদের মধ্যে বেশীরভাগ আতঙ্কগ্রস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভিতরে অবস্থান করতে হবে বেশি করে পানি পান করতে হবে। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে পানিতে ভিজানো কাপড় মুখের কাছে ধরতে হবে— আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভসের ওয়্যারহাউস পরিদর্শক দোলন আচার্য বলেন, কারখানার পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে তবে পুরোপুরি আনতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, অসুস্থদের মধ্যে নয় জন হাসপাতাল ছেড়েছেন অন্যরা আশঙ্কামুক্ত।
চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকার উল্টো দিকে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি ড্যাপ-১ কারখানা নামেও পরিচিত বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই সার কারখানার অ্যামোনিয়া ট্যাঙ্ক ছিদ্র হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস। বন্দর নগরীর বাইরে আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় ওই কারখানার থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়। এর ফলে পাশের আনোয়ারা উপজেলা, নগরীর বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড, হালিশহরসহ এলাকার বেশ কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।