ফারাক্কা বাঁধের সব দরজা একসঙ্গে খুলে দেয়ার ফলে কুষ্টিয়া জেলায় সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রী হিসেবে কিছু চাল বিতরণ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম। ফলে দুর্গত এলাকায় এখনও কাটেনি খাদ্য সংকট। সেই সাথে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ।
চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন জানান, বন্যায় দুই ইউনিয়নের ৯০ ভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এখানকার প্রধান ফসল আউস ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কারও ঘরে এক ছটাক খাবার নেই বলে জানান তারা।
দুর্গত এলাকায় দ্রুত গতিতে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, রাজশাহী পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এসএম আলী মর্ত্তুজা জানান, যমুনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে আড়াই মিটার নিচে রয়েছে পানি। তাই ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ায় গঙ্গা থেকে যে পানি আসছে তা দ্রুত যমুনা নদী দিয়ে নেমে যাচ্ছে। আর যমুনা নদীতে পানি বেশি থাকলে বন্যায় দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যেত।
এদিকে, কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি গতকাল সামান্য কমেছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছিল। রোববার বিকেলে যা ৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন জানিয়েছেন শনিবার দুর্গত এলাকায় ১৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। গতকালও দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য আরও ৬০টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সশরীরে এলাকায় গিয়ে চাল বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতি পরিবারে ১০ কেজি চাউলসহ খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে।
ভারতের বিহার রাজ্যে বন্যা মোকাবেলায় সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় পদ্মায় পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। এতে আকস্মিক বন্যায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশের পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা।