চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়া গ্যাস নিঃসরণের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তার গাফিলতিকে দায়ী করে প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
তদন্ত রিপোর্টে আরো উঠে এসেছে কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী দিলীপ কুমার বড়ুয়া ও টেকনিক্যাল ও মেইনটেনেন্স সার্ভিসের জিএম নকিবুল ইসলামের নাম। যাদের গাফিতলির কারণেই এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি।
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, তদন্ত কমিটি এ দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া ট্যাঙ্কের সকল নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি নষ্ট রেখে নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে উল্টো ট্যাঙ্ক নির্মাণের ত্রুটি দেখিয়ে নিজেদের দায় এড়াতে চেয়েছিলেন কারখানা কর্তৃপক্ষ যা তদন্তে উঠে এসেছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারার ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট সার কারখানায় ২২ শে আগস্ট ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ হয়। তবে দুর্ঘটনার ২দিন আগে থেকেই প্ল্যান্টটি বন্ধ ছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার দিন ৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার ট্যাঙ্ক গ্যাস মজুদ ছিল ৩৪০ মেট্রিক টন। এ অবস্থায় ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণ হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু ট্যাঙ্কের ৫টি নিরাপত্তা সিস্টেমের সবগুলোই ছিল অকেজো— এ বিষয়টি মেইনটেনেন্স বিভাগকে জানানোর পরও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। আর তাতেই ঘটে যায় বিস্ফারণের মত বড় দুর্ঘটনা।
কারখানার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তঃবিভাগীয় সম্বন্বয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে স্বচ্চতা আনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য পাঁচ দফা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
তদন্ত রিপোর্টে আরো উঠে এসেছে কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী দিলীপ কুমার বড়ুয়া ও টেকনিক্যাল ও মেইনটেনেন্স সার্ভিসের জিএম নকিবুল ইসলামের নাম। যাদের গাফিতলির কারণেই এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে তদন্ত কমিটি।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মেজবাহ্ উদ্দিন বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সার কারখানা এলাকাগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থা থাকাটা জরুরি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যা জিস্ট্রেট মোমিনুর রশিদ ছাড়াও আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৌতম বাড়ৈ ও কর্ণফুলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন।
গত রোববার বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড করপোরেশনের (বিসিআইসি) পক্ষ থেকে করা তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।