মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পারিবারিকভাবে কেনা জমিতে এ দাফন সম্পন্ন হয়।
গতকাল রাত পৌনে ৩টার দিকে মীর কাসেম আলীর মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। সাড়ে ৩টার দিকে জানাজার পর মরদেহ দাফন করা হয়। এ সময় ওই এলাকা ঘিরে তিন শতাধিক পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছিল।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দাফনের স্থান থেকে প্রায় চার কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ কাউকে ঢুকতে দেয়নি। দাফনের সময় মীর কাসেম আলীর প্রায় ৪০ জন স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ পর্যন্ত যে ছয় জন যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, তার মধ্যেপ এই প্রথম কাশিমপুরে কারও ফাঁসি হল। আগের পাঁচ জনের মৃত্যুয়দণ্ডই কার্যকর হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে, যা কেরানীগঞ্জে সম্প্রতি সরে গেছে।
ফাঁসিতে ঝোলানোর দুই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১২টায় র্যা ব-পুলিশের পাহারায় অ্যা ম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে।
চালা গ্রামে তার আগেই পৌঁছে যান মীর কাসেমের স্বজনরা।
মীর কাসেমের বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে হলেও তার পৈত্রিক এলাকা মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায়। ১৯৫২ সালে তার জন্মও সেখানে।
পৈত্রিক বাড়ি সূতালড়ি ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী গ্রামে হলেও নদী ভাঙনে ভিটে হারিয়ে যাওয়ার পর চালা ইউনিয়নের চালা গ্রামে জমি কিনেছিলেন কাসেম।
মীর কাসেম চালা ইউনিয়নে কেনা জমিতে বাড়ি না করলেও একটি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে তিনি ওই এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হতে চেয়েছিলেন।
মানিকগঞ্জ শহর থেকে হরিরামপুরের চালা গ্রামের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটারের মতো। শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে ঘিওর উপজেলার কলতাবাজারের উপর দিয়ে যেতে হয় চালা গ্রামে।
মীর কাসেমের স্বজনরা কলতাবাজার পৌঁছেন পাঁচটি গাড়ি নিয়ে। ওই সময় সেখানে পুলিশ তাদের থামিয়ে ১৫ মিনিটের মতো কথা বলে। পরে চারটি গাড়ি যেতে দেয়া হয়।
রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ছেলে মীর কাসেম ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর জামাতে যোগ দেয়ার পাশাপাশি নানা ব্যজবসার মাধ্যামে দলটির ‘আর্থিক মেরুদণ্ডে’ পরিণত হয়।
তিনি ইসলামী ব্যাং কের প্রতিষ্ঠাকালীন ভাইস চেয়ারম্যাকন ছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন তিনি।
রাবেতা আল ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা মীর কাসেম দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনের চেয়ারম্যানও ছিলেন। কেয়ারি গ্রুপের কর্ণধার হিসেবেও তার নাম আসে।
তার মৃত্যুনদণ্ড কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় জামাত সোমবার সারাদেশে আধাবেলা হরতাল ডেকেছে। তারা দাবি করে করেছে, অন্যাসয় বিচারের সাজা হয়েছে তাদের নেতার।
আর কিশোর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা্র দায়ে মীর কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে—সেই জসিম উদ্দিনের বোন হাসিনা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ৪৫ বছর ধরে ‘বুকের ভেতর চেপে বসা পাথর’আজ যেন নেমে গেল।
একাত্তরে চট্টগ্রামে এ বদর কমান্ডার পরিচালিত ‘মৃত্যুঘর’ ডালিম হোটেলের নির্যাতিতরা মীর কাসেমের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের দাবিও তুলেছেন।