সংশোধিত পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের বিরোধিতায় পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের পাঁচ সংগঠনের আহ্বানে রোববার তিন পার্বত্যপ জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে।
সকাল থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে—বিভিন্ন স্থানে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট।
রাঙামাটি কতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ রশিদ বলেন, সকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থকদের পিকেটিং করে তবে কোথাও বড় ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।
শহরের তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার, বনরূপা, কলেজ গেইট এলাকার অধিকাংশ দোকান পাট বন্ধ রেখেছেন ব্যছবসায়ীরা। সড়কপথে যান চলাচলের পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ নৌ- রুটও বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও টহলে রয়েছেন বলে জানান ওসি।
পার্বত্য ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতার পরিবর্তন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন সংশোধনের পর গত ৯ আগস্ট তা অধ্যা্দেশ আকারে জারি করা হয়।
আন্দোলনরত সংগঠনগেুলোর দাবি, সংশোধিত এ আইনের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাঁচ সংগঠন হল পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য গণপরিষদ, সম-অধিকার আন্দোলন, পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙ্গালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
শনিবার রাঙামাটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে হরতালের ঘোষণা দিয়ে পার্বত্য গণপরিষদ মহাসচিব আলম খান বলেন, সরকার যে পার্বত্য ভূমি কমিশন সংশোধন আইন জারি করেছে তাতে এ এলাকায় বাঙালিদের ভূমির অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটে। সেই চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ের ভূমির অধিকার নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই কমিশন গঠন করা হয়।
পুরনো আইনে কমিশনের চেয়ারম্যানের হাতে একক সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা থাকায় ওই কমিশন কার্যকর হচ্ছিল না বলে অভিযোগ করে আসছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা), যিনি জনসংহতি সমিতির সভাপতি।
জনসংহতি সমিতিসহ পাহাড়িদের বিভিন্ন সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলনের পরই সরকার চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা কমিয়ে আইন সংশোধনের উদ্যোতগ নেয়।