রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক যানবাহন।
শুক্রবার ভোর থেকে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সারি দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।
দৌলতদিয়া কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার সফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে— রুটে ১৬টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে।
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুবাহী ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে এতে কিছু যাত্রীবাহী বাস ঘাট এলাকায় আটকা পড়ছে বলে জানান তিনি।
ঘাটের কর্মকর্তা ও যানবাহনের চালকেরা জানিয়েছেন, দৌলতদিয়ার চারটি ঘাট থেকেই ফেরি ছাড়ছে কিন্তু ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পারাপারে দেরি হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকাল ১০টা নাগাদ পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সারি দৌলতদিয়া ঘাট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। এই পথের দৈর্ঘ্য প্রায় সাত কিলোমিটার। যানবাহনের মধ্যে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, পশুবাহী ট্রাক রয়েছে।
হেলাল উদ্দিন নামের এক বাসচালক বলেন, গতকাল রাত থেকে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আছি, আর বাসের প্রায় সব যাত্রী নেমে গেছেন।
ফরিদ ব্যাপারী নামের এক গরু ব্যবসায়ী জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়ায় এসে আটকে পড়েছেন, আজ সকালে বাধ্য হয়ে ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে ট্রলারে করে নদী পারাপারের ব্যবস্থা নিয়েছি।
এরইমধ্যে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে দৌলতদিয়ার ফেরি ঘাটগুলো একের পর এক নদীতে বিলীন হয়ে গছে ক্ষতিগ্রস্ত ফেরি ঘাটগুলো মেরামত করা হলেও তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হচ্ছে না।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দৌলতদিয়ার সবকটি ঘাট সচল হয়েছে—এ সংবাদের ভিত্তিতে হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস ও কোরবানির গরুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন নদী পারের আশায় দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে শুরু করে।
স্থানীয় বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া অফিস সূত্র জানায়, সবকটি ঘাট অনেকটা নাম মাত্র চালু হয়েছে— বৃহস্পতিবার ২নং ফেরিঘাটটি চালুর পর মাত্র দুইটি ছোট ফেরি সেখানে লোড-আনলোড করা সম্ভব হয়েছে।
তীব্র স্রোতের কারণে সেখানে কোন ফেরি ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না, এছাড়া ৩নং ফেরি ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে আর ৪নং ফেরি ঘাটেরও দুটি পকেট দিয়ে যানবাহন উঠা-নামা করতে পারছে এ পরিস্থিতিতে নৌরুট কতটা স্বাভাবিক তা বলা যায় না।
বিআইডব্লিটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দৌলতদিয়ার সবকটি ঘাট চালু রাখতে তাদের কর্মীরা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রকৃতির কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেও ঘাট স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। ঘাট ক্রমান্বয়ে ভাঙছে এবং পন্টুন পেছানো হচ্ছে।
এদিকে, ঘাট সমস্যা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে নদী পার হতে আসা হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাসসহ কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ঘাটে এসে সিরিয়ালে আটকা পড়েছে। এতে করে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার দুইটি বিশাল টার্মিনাল পরিপূর্ণ হয়ে ফোরলেন সড়কের বাম পাশে দুই লাইন করে থাকা যানবাহনের সারি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হয়েছে।