গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক শিল্প নগরীতে শনিবার একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে পৌঁছেছে।
এতে কমপক্ষে অর্ধশত জন আহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট। ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনটি ভেঙে পড়েছে। উদ্ধার কাজ চলছে, এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দমকল বাহিনীর সদস্যরা। আহত বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নিহতর খবর নিশ্চিত করেছেন।
কারখানাটিতে ফয়েল ও কেমিক্যাল–জাতীয় দ্রব্য প্রস্তুত করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনা তদন্তে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে বিশ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।
সকাল ৬টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের টঙ্গী ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভোর ৬টার দিকে ট্যামপাকো নামের একটি প্যাকেজিং কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়। এতে পুরো কারখানায় আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডে চার তলা একটি ভবনের একাংশ ধসে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী, জয়দেবপুর, কুর্মিটোলা, উত্তরাসহ ফায়ার সার্ভিসের আশেপাশের ২৫টি ইউনিট কাজ করছে। জানা গেছে, কারখানাটিতে রাতের শিফটের কাজ চলছিল।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় জানা গেছে।
তারা হলেন- কুমিল্লার বাসিন্দা ও কারখানার নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল হান্নান, একই এলাকার ইমন, ত্রিশালের রফিকুল ইসলাম, পিরোজপুরের আল মামুন, কুড়িগ্রামের ইদ্রিস আলী, মামুন, জাহাঙ্গীর আরম, জাহেদুর ইসলাম, সুভাস চন্দ্র।
জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, বিসিক নগরীর ট্যাম্পাকো নামের একটি কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. পারভেজ মিয়া বলেন, ২৩ জনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।
আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।