সেতু নির্মাণের আশ্বাস জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জবাব দেয়া চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়েছে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শীর্ষেন্দুর কাছে।
আর ওই চিঠি পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত পটুয়াখালীর শীর্ষেন্দুর পরিবারসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রায় এক মাস আগে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস চিঠি লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।
খরস্রোতা পায়রা নদীতে জনসাধারণের চলাচলে জীবনের ঝুঁকি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানায় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী ঊচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শীর্ষেন্দু বিশ্বাস। আর সেই চিঠি পেয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে সেতু নির্মাণের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী ফিরতি চিঠি প্রেরণ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শীর্ষেন্দুর কাছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত চিঠিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ আজ- সোমবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষেন্দুর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একটি শিশুর চিঠি পেয়ে উচ্ছসিত ও আনন্দিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহানুভবতা দেখিয়েছেন তাতে গর্বিত ও আনন্দিত সকলে।
গত ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে খুদে শিক্ষার্থী শীর্ষেন্দু বিশ্বাস তার চিঠিতে লিখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন। আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক। নাম শীর্ষেন্দু বিশ্বাস, পিতা বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, মাতা শীলা রাণী সন্নামত। আমি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র। আমার দাদু অবিনাস সন্নামত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমি আপনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলাম। আমি আপনার পিতার শৈশব কাল রচনা লিখে তৃতীয় স্থান অধিকার করি।
আমার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি। আমাদের মির্জাগঞ্জ নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এটি পটুয়াখালী জেলার একটি উপজেলা। এ নদীতে প্রচণ্ড ঢেউ। মানুষ ভয় পায়। কখনও নৌকা ডুবে যায় কখনও ট্রলার ডুবে যায়। এতে আমার থেকে ছোট ভাই বোন তাদের মা বাবাকে হারায়। আমি আমার মা বাবাকে প্রচণ্ড ভালবাসি। তাদের হারাতে চাই না। তাই আপনার কাছে একটাই অনুরোধ যে আপনি মির্জাগঞ্জ নদীতে ব্রিজের ব্যবস্থা করুন। তা যদি আপনি পারেন তা হলে আমাদের জন্য একটু কষ্ট করে এই ব্রিজ তৈরির ব্যবস্থা করুন। আজ আর নয়। ইতি, আপনার দেশের একজন সাধারণ নাগরিক, শীষেন্দু বিশ্বাস।
চিঠির ওপরের অংশে লেখা রয়েছে পুরান বাজার, পটুয়াখালী। তারিখ ১৫/০৮/২০১৬।
চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর দিয়ে উত্তর পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শীর্ষেন্দুর চিঠি পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, স্নেহের শীর্ষেন্দু, তুমি শুধু দেশের একজন সাধারণ নাগরিক নও, দেশের ভাবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেয়ার অগ্রজ সৈনিক। আমি জানি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা। নিজের পিতামাতাসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই নদী কেন্দ্রিক তোমার নিরাপত্তা সচেতনতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি বুঝতে পারি তোমার বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদুর প্রভাব রয়েছে তোমার ওপর। মির্জাগঞ্জের পায়রা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে তোমাকে আশ্বস্ত করছি।’ চিঠির জবাবের শেষের দুই লাইনে প্রধানমন্ত্রী শীর্ষেন্দুসহ পরিবারের সবার মঙ্গল কামনা করে শেষ করেন।
আমার এখনও বিশ্বাস হয় না যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলের চিঠি পড়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে হাজার হাজার প্রণাম জানাই। ছেলের জন্য আমি খুবই গর্বিত ও আনন্দিত জানান শীর্ষেন্দুর মাতা শীলা রাণী সন্নামত।
প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার নাতির লেখা চিঠির উত্তর হিসেবে ব্রিজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে আমরা অনেক আনন্দিত শীর্ষেন্দুর দাদু বীর মুক্তিযোদ্ধা অবিনাশ সন্নামত।
গত ২০সেপ্টেম্বর চিঠিটি স্কুলের ঠিকানায় আসে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শীর্ষেন্দু ও তার পরিবারের হাতে চিঠিটি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক।
খুদে শিক্ষার্থীর লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি চিঠি আর সেতুর প্রতিশ্রুতি দেয়ায় গর্বিত আমরা বলে জানান পটুয়াখালী সরকারি জুবীলি ঊচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান।
পায়রা নদীর দুপাড়ের জায়গায় প্রস্থে প্রায় দুই কিলোমিটার খরস্রোতা এ নদীর একপ্রান্তে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়রাকুঞ্জ এলাকা অপরপ্রান্তে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মনোহরখালী।
শীর্ষেন্দুর লেখা চিঠি পেয়ে পায়রার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনন্দিত হয়ে ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়ায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সবাই।