টাঙ্গাইলে র্যাবে সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত জঙ্গি আহসান হাবিব শুভ মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমগারে ৪ দিন রাখার পর বুধবার নিহতের বাবা আলতাফ হোসাইন মরদেহটিগ্রহণ করেন।
টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা মির্জামাঠ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বিদ্যালয় শিক্ষক আজহারুল ইসলামের ৩ তলা ভবনের নিচ তলার ২টি কক্ষ ভাড়া নেয়া দুই জঙ্গি সদস্য। গত শনিবার র্যা বের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয় ওই দুই জঙ্গি।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত জঙ্গি আহসান হাবীব শুভও নিখোঁজ ছিলেন পরিবারের কাছে। নিহত জঙ্গিদের একজন নওগাঁ জেলার রাণীনগর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আলতাফ হোসাইনের ছেলে আহসান হাবিব শুভ (২৪)।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের এ শিক্ষার্থীর আচার আচরণে পরিবারের সদস্যের কখনো কোনো সন্দেহ হয়নি। মেধাবী শিক্ষার্থীর জঙ্গি কর্মকাণ্ডের খবর অনেকটাই হতবাক করে দিয়েছে স্বজনদের।
টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা মির্জামাঠ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত দুই জঙ্গির একজন আহসান হাবীব শুভ। নওগাঁ শহরের জনকল্যাণ পাড়ার বাসিন্দা আহসান জেলার সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশের পর ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে।
সেখানে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার পর ২০১৫ সালের এপ্রিলে নিখোঁজ হয় তিনি। মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের ছেলে আহসান।
স্বজনরা বলেন, তারা আচার-আচরণে কখনোই তাদের কোনো সন্দেহ হয়নি। এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই ২০১৪ সালে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।
একই অভিযানে নিহত জয়পুরহাটের আমিমুল ইসলামও নিখোঁজ ছিলেন পরিবারের কাছে। ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর নিখোঁজ হন তিনি। এ ব্যাপারে তার বাবা আব্দুল গাফফার থানায় জিডিও করেছিলেন।
আহসান ও আমিমুলসহ শনিবার টাঙ্গাইল ও গাজীপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত এগারো জঙ্গির মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় মিলেছে। ছবি প্রকাশ করে বাকীদেরও তথ্য চেয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।