শতভাগ শিক্ষিতের গ্রাম নাটোরের হুলহুলিয়া। স্যানিটেশন ব্যবস্থা যেমন আধুনিক তেমনি বাল্য বিয়ে ও যৌতুকের প্রচলনও নেই সেখানে। এমনকি স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত গ্রামটির কোনো মানুষের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলাও হয়নি কখনও। সেখানে সব বিরোধ মীমাংসা হয় সমঝোতার ভিত্তিতে।
কর্মকর্তারা বলছেন, এমন আদর্শ গ্রাম সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত হবে বাংলাদেশ।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রাম। জনসংখ্যা সাড়ে তিন হাজার। গত দু'শ বছর ধরে নিজস্ব গণতান্ত্রিক শাসন আর বিচার ব্যবস্থা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে গ্রামটি।
গ্রামটির রয়েছে নিজস্ব সংবিধান— এমনকি উচ্চ ও নিম্ন আদালতও। সকল বিরোধ এর মীমাংসা হয় সেখানেই।
এসএসসি পাস করা বাধ্যতামূলক এখানে। প্রতি ঘরে আছে আধুনিক স্যানিটেশন। নেই বাল্যবিয়ে কিংবা কোনো ধরনের কুসংস্কারও।
উন্নয়ন ও বিচার ব্যবস্থাসহ গ্রামের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন একজন চেয়ারম্যানসহ ২৩ সদস্যের হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদ। যা ১৯৩৫ সালে গঠিত হয় এ পরিষদ। বর্তমানে হুলহুলিয়ার চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ।
এমন আদর্শ গ্রাম যদি সারাদেশে প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে মনে করছেন সরকারি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আতিয়ুর রহমান।