ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শনে গেছেন ১৪ দলের প্রতিনিধি দল।
এর আগে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে পৌঁছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
এসময় রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।
নাসিরনগরের ঘটনার বিচার হলেই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনারাবৃত্তি হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৮ অক্টোবার শুক্রবার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাসের ফেসবুক পাতায় 'ইসলামের অবমাননাকর' একটি পোস্ট পাওয়া যায়, যা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ওই দিনই রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। পরদিন পুলিশ তাকে আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেইসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নাসিরনগরে ১৫টি মন্দিরসহ হিন্দুদের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এর পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এদিকে, নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন নেতা সাময়িক বহিস্কার করা হয়। তারপর থেকে বিএনপি বলে আসছে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ দায়ী।
তারা হলেন: সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া।
ঘটনা তদন্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।