ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় রোববার আবারো হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভোরে নাসিরনগর সদরের পশ্চিম পাড়ার জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন ছোট্ট দাসের জাল রাখার পরিত্যক্ত ঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে জালসহ ঘরের অংশবিশেষ পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা তদন্ত করা দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিজিবি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং এলাকাবাসীর পাহারার মধ্যেও অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, নাসিরনগর সদর উপজেলার পশ্চিমপাড়া জেলে পল্লীর বাসিন্দা ছুট্টু লাল দাস। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একদল দু্র্বৃত্ত তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে তার ঘরে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকার জাল পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত ৮ সদস্যের পাহারাদার দল সারারাত পাহারা শেষে বাড়ি ফেরার পরপরই দুর্বৃত্তরা তার ঘরে আগুন লাগায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে, নাসিরনগরসহ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই। যশোরের অভয়নগরে মানববন্ধন হয়েছে। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই হাজার মানুষ যোগ দেন। অবিলম্বে হামলাকারীদের আটক করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর ফেইসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননার’ অভিযোগ তুলে নাসিরনগরে ১৫টি হিন্দু মন্দির ও অন্তত দেড়শ বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।এর পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে, দেশজুড়ে যার ব্যাপক সামলোচনা হয়।
এ ঘটনার জেরে পাশের জেলা হবিগঞ্জের মাধবপুরেও দুটি মন্দিরে হামলা হয়।
ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর গত ৪ নভেম্বর ভোররাতে নাসিরনগর সদরের কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে কয়েকটি বাড়ির রান্নাঘর ও গোয়ালঘরসহ একটি পূজার ঘর পুড়ে যায়।