নারায়ণগঞ্জ বন্দরের স্বল্পেরচক এলাকায় মঙ্গলবার গ্যাস বিস্ফোরণে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জন দগ্ধ হয়েছেন।
দগ্ধরা হলেন: রায়হান (৩৫), স্ত্রী মায়া (৩০) ও কন্যা মরিয়ম (১৪)। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ণ ইউনিটের ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর পুলিশ ও বন্দর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ পাশের বাড়ির ২ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন: সাইফুল ও সাখান।
প্রত্যাক্ষদর্শীদে উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বন্দরের স্বল্পেরচকের বিল্লাল মিয়ার বাড়িতে স্ত্রী এবং কন্যাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন মাটিকাটা শ্রমিক রেহান। পাশের বাড়ির একটি গ্যাস রাইজারের লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে ওই ঘরে আবদ্ধ থাকত বলে বাড়ির মালিক জানান। এ নিয়ে পাশের বাড়ির মালিক সাখান ও সাইফুলের সঙ্গে বিল্লালের ঝগড়াঝাটি হয়। লিকেজ বন্ধ করার জন্য তাদের মধ্যে কয়েকবার দেনদরবারও হয়।
তবে গ্যাস লিকেজ বন্ধের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন বিল্লাল। ওই গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে বলে তিনি জানান।
পাশের কক্ষের সেলিম বলেন, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠেন। ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন রেহান ও তার স্ত্রী বিবস্ত্র অবস্থায় আগুন আগুন বলে চিৎকার করছেন। এ সময় অন্যান্য ভাড়াটেদের সহায়তায় তিনি তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
বন্দর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা নাসিরউদ্দিন বলেন, আপাতত গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, স্বল্পেরচক এলাকার ওই বাড়িতে গ্যাস রাইজার থেকে আগুনের সুত্রপাত বলে আপাতত ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাশের বাড়ির ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাতভর ফ্যান চলার কারণে গ্যাস রাইজারের লিকেজ থেকে গ্যাস বেরিয়ে পাশের রুমে গিয়ে জমাট হয়। ভোরে সিগারেট জ্বালাতে দিয়াশলাই ধরাতেই আগুন লেগে বিস্ফোরণ হয়। এতে একই পরিবারে ৩ জন দগ্ধ হন।
আহত রেহান চাঁদপুর জেলার মতলব থানার বেগমপুর গ্রামের মৃত সিরাজ মিজির ছেলে। তারা ১০ বছর ধরে বন্দরে বসবাস করছেন। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। মাটি কাটার কাজ করেন।