মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা শতাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফিরিয়ে দেয়া রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া পয়েন্টে নাফ নদীতে এ অভিযান চালানো হয়।
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩টি সীমান্ত পোস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নয় সীমান্ত পুলিশের মৃত্যু হয়। এরপরই আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শুরু হয় সেনাবাহিনীর অভিযান।
অভিযানের মুখে অনেক রোহিঙ্গা নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ পেক্ষাপটে টেকনাফ সীমান্তে কোস্টগার্ড ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে চাইলেই তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়া পয়েন্টে নাফ নদীর জলসীমার শূন্য রেখা থেকে ১২৫ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সীমান্ত খোলা রাখার আহবান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
সংস্থাটি শুক্রবার এক বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মিয়ানমারের সরকারকে সেখানকার রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা কয়েকযুগ ধরে বাংলাদেশে এসে বসবাস করছে। বেসরকারি হিসেবে বর্তমানে এদেশে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে।