দমন-নির্যাতন থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। একইসঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের পরিসংখ্যানও করা হবে বলেও জানান তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শেষে শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
বিজিবিকে সীমান্তে সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে নতুন করে অনুপ্রবেশ করেছে তার পরিসংখ্যান করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কক্সবাজার যান বিজিবি মহাপরিচল মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। পরে সেখানে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন এবং বিজিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন তিনি।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমার ও বাংলাদেশের আচরণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমষ্টিগতভাবে শাস্তি দিচ্ছে।
আরো বলা হয়, নির্যাতন থেকে বাঁচতে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের পুশ-ব্যাক করছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে অন্তত দুই হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে আশপাশের গ্রাম, শরণার্থী শিবির ও বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে।
নাফ নদী ও ভূমিতে আত্মগোপন করা রোহিঙ্গারা খাবার, পানি ও জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
সম্প্রতি মিয়ানমারে নতুন করে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় গত অক্টোবর থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে কমপক্ষে ৭০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর)।
প্রসঙ্গত, নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে কক্সবাজারের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে আসছে। মিয়ানমারে ফিরে গেলে নিশ্চিত মৃত্যু তাই নাফ নদীতে ভেসে থেকে বার বার তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে সীমান্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।