ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণের আশঙ্কায় এবছর খুলনা বিভাগের যশোরসহ ৬ জেলায় গম চাষ না করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
গমের বদলে চাষীরা এবার ভুট্টা, ডাল ও তেল জাতীয় ফসলের আবাদ করছেন।
রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে বীজ সরবরাহও বন্ধ রেখেছে বিএডিসি—সেই সঙ্গে এ রোগ প্রতিকারে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত গমের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়-এতে গমের ফলন আসে না।
গতবছর মেহেরপুর ও যশোরে বিএডিসির বীজের মাধ্যমে ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। পরে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গাসহ খুলনা বিভাগের ৬ জেলায় গম ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ সনাক্ত করেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।
যশোরের বিএডিসি উপ-পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, আক্রান্ত বীজের মাধ্যম গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়ায় তাই আপাতত গম চায় বন্ধ রাখা হয়েছে।
এখনো এর প্রতিশেধক আবিষ্কার না হওয়ায় এসব জেলায় গমের বদলে সরিষা ও ভূট্টা চাষ করার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
যশোরের আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক ফয়েজ উদ্দিন একই কথা জানিয়েছেন।
সরিষা ও ভুট্টার আবাদ করলেও সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
ব্লাস্ট রোগের প্রতিষোধক আবিষ্কারের পাশাপাশি এ রোগ প্রতিরোধক গমের জাত উদ্ভাবনে কাজ করা হচ্ছে জানান যশোরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম।
১৯৮৫ সালে সর্ব প্রথম ব্রাজিলে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা যায়। পরবর্তীতে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশ বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশে গমে এ রোগের বিস্তার ঘটে।