পরিবহণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান- পুলিশের হয়রানি- নির্যাতন বন্ধসহ নয় দফা দাবিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টার পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীর অলংকার মোড়, বহদ্দারহাট, শাহ আমানত ব্রিজ এলাকায় পিকেটিং করে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রামে শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছা বলেন, নয় দফার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামে বাস, ট্রাক ও প্রাইম মুভারের জন্য আলাদা টার্মিনাল নির্মাণ, ফেরি ও সেতু পারাপারে টোল কমানো, বি আরটিএ ও শ্রম পরিচালকের দপ্তরে দুর্নীতি কমানো, হয়রানি বন্ধ।
এদিকে, ইজিবাইকসহ সব ধরনের অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে হবিগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট ডাক দিয়েছে।
এতে জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আওতাধীন বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, ম্যাক্সি, ইমা, টেম্পো, জিপ চলাচল করছে না। ফলে হবিগঞ্জের সঙ্গে ঢাকা ও সিলেটের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
এছাড়াও জেলার অভ্যন্তরীণ কোনো সড়কেও যান চলাচল করছে না। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সেক্রেটারি শংখ শুভ্র রায় বলেন, ধর্মঘট চলাকালে জেলার সব সড়কে জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আওতাধীন পরিবহণগুলো চলাচল বন্ধ থাকবে। হবিগঞ্জ-ঢাকা বাসও চলাচল করবে না।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন সড়কে অবৈধ ইজিবাইকসহ (টমটম) অন্যান্য পরিবহণ অবৈধভাবে চলাচল করছে। এতে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি বৈধ পরিবহণগুলোর চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। যানজটের কারণে যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এসব অবৈধ পরিবহন চলাচল বন্ধের দাবিতে গত ৯ অক্টোবর হবিগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে অবৈধ পরিবহনগুলো চলাচল বন্ধের জন্য প্রশাসনকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সময়সীমা বেঁধে দেয়।
তবে এর মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ টমটমসহ অন্যান্য পরিবহণ চলাচল বন্ধ না করায় জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দেয়।