দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন বাঁশপুকুর, বৈদ্যনাথপুর ও শিবরামপুরসহ ৯টি গ্রামের বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। এলাকায় হঠাৎ করে পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে গেছে পুকুর ও ডোবা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, খনি থেকে কয়লা তোলার সময় কেঁপে কেঁপে উঠছে গ্রামগুলোর বাড়িঘর। ভূমি ধ্বসের পাশাপাশি বাড়ি ধসে চাপা পড়ার আশঙ্কায় আতংকিত দিন কাটাচ্ছেন সেখানের মানুষ।
ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে বছর দুয়েক আগে দিনাজপুরের জিগাগাড়ি ও কালুপাড়া গ্রামের পুরো এলাকা এবং পাতিগ্রাম, বাঁশপুকুর, বৈদ্যনাথপুর, বৈগ্রামের আংশিক এলাকার ঘর-বাড়িতে ফাটল ও ভূমি ধ্বস দেখা দেয়।
এজন্য ২০১৪ সালে খনি কর্তৃপক্ষ ৬৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল এখন অধিগ্রহণ করা এলাকার বাইরে খনি সংলগ্ন ৯টি গ্রামের বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। নতুন করে প্রায় ১০ হাজার গ্রামবাসীর মধ্যে আবারো দেখা দিয়েছে আতংক।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের কারণে গ্রামগুলোর বাড়ি-ঘর যখন-তখন প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠছে। এ সময় আতংকিত গ্রামবাসী বাড়ি থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে, কয়েক মাস আগে বাড়ি-ঘরে ফাটল দেখা দেয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি গ্রামের পুকুর ও ডোবার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি উঠছে না টিউবওয়েল থেকে। জমিতে কমে গেছে ফসলের আবাদ। জমি দেবে যাওয়ায় অনেক বাড়ির দরজা জানালা খোলা বা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বাড়ি ধসে দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হামিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন সাইদুল ইসলাম মন্ডল
ও জীবন পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মশিউর রহমান বুলবুল।
এদিকে, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আওরঙ্গজেব জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।