নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে কিশোর শ্রমিক ইয়ামিন (১৫) হত্যার ঘটনা মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইয়ামিনের বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন। রায়হান নামে একজনকে গ্রেপ্তারের পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মঞ্জুর কাদের বলেন, কিশোর হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে রায়হানকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে সে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহাসিনের আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বাকারোক্তীমূলক জবানবন্দি দেয় বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে আজই ইয়ামিনের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহজমপুরে বিআর স্পিনিং মিলের ১৫ বছর বয়সী শিশু শ্রমিক মোহাম্মদ ইয়ামিন বুধবার রাত ১০টার দিকে কাজ শেষে শরীরে লেগে থাকা তুলা পরিষ্কার করছিল।
এ সময় কারখানার সহকর্মী রায়হান ওরফে হৃদয় ইয়ামিনের পায়ুপথ দিয়ে বাতাস দিলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জোবায়দা টেক্সটাইল মিলে সাগর বর্মণ নামের এক শিশু শ্রমিকের পেটে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়।
উল্লেখ, গতবছর ৮ নভেম্বর খুলনায় শিশু রাকিব হত্যা মামলার রায়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। ৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলের হাওয়া দেয়া কমপ্রেসর মেশিনের পাইপ শিশু রাকিবের পায়ুপথে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দিয়ে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে তিন জনের নামে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।