আগামী তিন মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের মধ্যে সব ‘অভ্যন্তরীন কোন্দল’ মিটিয়ে ফেলার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রোববার সকালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় ‘প্রাতরাশ বৈঠকে’ সময় এ কথা বলেন তিনি।
কোন্দলে জর্জরিত চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের সমস্যা মেটাতে বন্দর নগরীতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ওবায়দুল কাদের ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বলেন, আর কোনো খারাপ খবরের শিরোনামে ছাত্রলীগকে দেখতে চান না।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দরপত্র ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দল যখন চরমে ঠিক সেসময়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুই মেরুতে থাকা মহিউদ্দিন-নাছিরকে কেন্দ্র করে মহানগর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগও বিভ্ক্ত।
নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আর দুই বছর বাকি— নির্বাচনের জন্য আমরা ‘অল আউট প্রিপারেশনে’ যাচ্ছি সেজন্য আমি চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু করলাম।
তিনি বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এসব বিষয়গুলো নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা করেছি— এখানে ছাত্রলীগ রিলেটেড কিছু সমস্যা হয়। সমস্যাগুলো যাতে না হয় সেজন্য আলোচনা করেছি, আশা করছি এখানে আমরা এক সাথে কাজ করব এবং একটা টিমওয়ার্ক গড়ে তুলব।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজ ইফরান চৌধুরীর মৃত্যুর বিষয়টিকে ‘কনফিউজিং’ –এ কথা জানিয়ে
তিনি বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার নয়, ফ্যামিলি বলছে হত্যা করা হয়েছে; পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট বলছে আত্মহত্যা করেছে। সিআইডির পূর্ণ তদন্ত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো মেটানোর পাশাপাশি ছয় মাসের মধ্যে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন করার কথা জানান তিনি।
দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা, অপকর্ম সংশোধন না হলে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিকভাবে দমন করা হবে বলে নেতাদের সতর্ক করে দেন ওবায়দুল কাদের।
মহিউদ্দিনের বাসার ওই আলোচনার সময় বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনও ছিলেন।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহা. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শামসুল আরেফীন, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন উপস্থিত ছিলেন।
তবে মেয়র নাছিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ছিলেন না।