দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২১ জেলায় পণ্য পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ এবং অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাসহ ১২টি দাবিতে সোমবার ভোর থেকে এ ধর্মঘট চলছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আন্দোলনরত মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও আইন শৃংখলা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ৩ ঘণ্টার বৈঠকে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন না করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে তল্লাশীর নামে চাঁদাবাজি বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করা যাবে না। একইসঙ্গে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ উঠেছে— তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, তাদের অন্যান্য দাবিও বিবেচনা করে দেখা হবে। তবে সরকারের নির্দেশনাও মালিক-শ্রমিকদের মানতে হবে।
এদিকে, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের সাইড অ্যাঙ্গেল, বাম্পার ও হুক অপসারণের নির্দেশনা বাতিল, ফেরিঘাটে চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধ, পরিবহন তল্লাশীর নামে আইন শৃংখলা বাহিনীর হয়রানি বন্ধসহ ১২ দফা দাবিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার পণ্য পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করে আসছিল।
এর কারণে ২১ জেলার সঙ্গে সারাদেশের ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপসহ পণ্যবাহী ও সব ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ভোমরা বন্দরসহ এ অঞ্চলে আটকা পরে পণ্যবাহী শত শত ট্রাক।