প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের বহনকারী ভ্যানেরচালক ইমাম শেখকে চাকরি সুযোগ করে দিয়েছে বিমান বাহিনী।
রোববার সকালে বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল তার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়ার সরদার পাড়ায় পৌঁছে ইমামের জেলা শহরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে বিমান বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময়, তারা জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ইমাম শেখকে বিমান বাহিনীতে চাকরি দেয়া হলো।
সকালেই বিমান বাহিনীর যশোর ক্যান্টনমেন্টের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটির স্কোয়ার্ডন লিডার হারুন-উর-রশিদ টুঙ্গিপাড়ার সরদারপাড়া গ্রামে ইমাম শেখের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী টুঙ্গিপাড়ার ভ্যানচালক ইমাম শেখের মনের আশা পূরণ হয়েছে—তার অব্যক্ত মনের আশা পূরণ করায় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছে এ কিশোর।
প্রধানমন্ত্রী রিকশাভ্যানে চেপে শুক্রবার সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় নিজ এলাকা ঘুরে দেখেন। শেখ হাসিনা কোলে নাতিকে নিয়ে বসেন ভ্যা নের সামনের দিকে, অন্যর পাশে ভাগ্নে ছোট বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। পেছন দিকে বসেন রাদওয়ানের মেয়ে ও স্ত্রী পেপি সিদ্দিক।
প্রধানমন্ত্রী যে ভ্যানে চড়ে পৈত্রিক এলাকা ঘুরে দেখেন সেই চালক ইমাম শেখ। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া উপজেলার পাটগাতী সরদার পাড়া গ্রামে। ১৭ বছর বয়সী ইমাম ভ্যান চালায় দুই বছর ধরে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করে এখন জীবনযুদ্ধ জয়ী হতে চলেছে ভ্যানচালাক। আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসার। তার বাবা আব্দুল লতিফ শেখ মানসিক রোগী, মা গৃহিণী। তার দুই ভাই, তিন বোন। ইমামের বাবা মানসিক রোগী আব্দুল লতিফ শেখের চিকিৎসা ও ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে।
ইমামের বড় ভাই সাদ্দাম শেখ ঢাকায় সম্প্রতি চাকরি পেয়েছেন তবে এখনো বেতন পাননি। বোন রেকসানা ও সোহাগী আক্তারের বিয়ে হয়েছে, ছোট বোন নাদিরা বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইমামের ভ্যান যাদুঘরে রাখা হবে।