মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের দমন-পীড়নের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুটি শিবির সোমবারও পরিদর্শন করেছে কফি আনান কমিশনের প্রতিনিধিদল।
গতকাল তিন সদস্যের এ দলটি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের দুটি রোহিঙ্গাশিবিরে পরিদর্শন করে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন তারা।
কফি আনান কমিশনের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মিয়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন, লেবানিজ নাগরিক ঘাশান সালামে।
ঢাকা থেকে গতকাল সকালে কক্সবাজারে যান প্রতিনিধিদলটি বেলা ১১টায় প্রথমে উখিয়া উপজেলার বালুখালীর জঙ্গলে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গাশিবিরে।
এ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন ইউএনএইচসিআর (জাতিসংঘ শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা), আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে আনান কমিশনের সদস্যরা রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি শুনেছেন। দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা ঢাকায় ফিরে যাবেন।
গত বছরের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের তিনটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় ৯ পুলিশসহ ১৮ ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী সেখানে অভিযান শুরু করে। আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয় কয়েক হাজার বাড়িঘরে। গৃহহীন প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার কয়েকটি রোহিঙ্গাশিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকে এসব শিবিরে অবস্থান করছিল মিয়ানমারের আরও ৪ লাখ রোহিঙ্গা।
রাখাইন রাজ্যের জনগণের কল্যাণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ তৈরির জন্য মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি গত বছর জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানকে প্রধান করে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেন। রাখাইন রাজ্যের সব নাগরিকের মানবিক ও উন্নয়ন, নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপাদানগুলোকে নিয়ে কমিশন সুপারিশ তৈরি করবে। কফি আনান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মিয়ানমারের ছয় নাগরিক ও তিন বিদেশি বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত এ কমিশন।