সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোড়া শটগানের গুলিতেই সমকালের প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহাজাদপুর-এনায়েতপুর) আসনের সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপন।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকে সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে শাহজাদপুরে আধাবেলা হরতাল পালিত করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিমুলের জানাযার আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সাংসদ হাসিবুর রহমান বলেন, পৌর মেয়র মিরু নিজে তার শটগান দিয়ে বাড়ি থেকে পর পর পাঁচটি গুলি করেন, যার একটি শিমুলের চোখে ও মাথায় বিদ্ধ হয়।
তিনি আরো বলেন, শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিভেদ নেই। মেয়র নিজে ও তার দুই ভাই এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পৌর শহরে সন্ত্রাস করছিলেন। সাংবাদিক শিমুল পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মেয়রের নিজের শটগানের গুলিতে শিমুল তার বাড়ির সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমরা এ ঘটনার জন্য মেয়রের গ্রেপ্তার ও তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।
এ সময় উপস্থিত সাবেক সাংসদ চয়ন ইসলাম বলেন, শাহজাদপুরে রাজনীতি এতদিন সুস্থ ছিল— মেয়রের কর্মকাণ্ডের কারণেই নিজেও বিতর্কিত হয়েছেন দলকেও বিতর্কিত করতে চাচ্ছেন। দল তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কখনই দায়িত্ব নিবে না।
সাবেক ও বর্তমান এ দুই সাংসদ এ সময় জরুরি ভিত্তিতে পৌর মেয়র মিরুর গ্রেপ্তারসহ তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শনিবার বেলা পৌনে ১১ টার দিকে শাহজাদপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আব্দুল হাকিম শিমুলের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মানুষের ঢল নামে।
এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত, উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, নির্বাহী অফিসার মামুন আল রাজি, থানার ওসি রেজাউল হক, সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, সমকালের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক তপন দাস, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজল এ খোদা লিটন ও শিমুলের ছোট ভাই আজাদ বক্তব্য রাখেন।
জানাযায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। পরে শিমুলের মরদেহ তার নিজ গ্রামের বাড়ি মাদলা-কাকিলাবাড়ীতে নেয়া হয়। এরপর কাকিলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় জানাযা শেষে মাদলা-কাকিলাবাড়ী কবরস্থানে দাফন করা হয় শিমুলের মরদেহ।
গতকাল এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক হরা হয়েছে।
সাংবাদিক শিমুল হত্যার প্রতিবাদে ডাকা অর্ধদিবস হরতালে শনিবার সকাল থেকেই শাহজাদপুর উপজেলার সড়ক মহাসড়কগুলোতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল এলাকার দোকানপাট। বিভিন্ন জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন হরতাল সমর্থকরা।
সাংবাদিক শিমুল হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় এ হরতালের ডাক দেয় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। হরতালে সমর্থন জানিয়েছে শাহজাদপুর উপজেলা প্রেসক্লাব। শনিবার থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে শাহজাদপুরসহ জেলার সাংবাদিকরা।
প্রসঙ্গত: বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাফিজুল হক পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থক, কলেজছাত্ররা ও মহল্লার লোকজন একযোগে বেলা ৩টার দিকে মেয়রের বাসায় হামলা চালান। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে হালিমুল হক মিরু তার শর্টগান থেকে গুলি ছোড়েন।
এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন হাকিম। সংঘর্ষের সময় তার মাথা ও মুখে গুলি লাগে। তাকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনার পথে তিনি মারা যান।
জানা গেছে শিমূলের মৃত্যুর খবর শুনে তার নানী মারা গেছেন।