সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যার প্রতিবাদে আজো-রোববার দেশজুড়ে চলছে সাংবাদিক ও সুধীজনের বিক্ষোভ।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যা মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন তারা—তবে নতুন করে আর কাউকে আটক করা হয়নি।
এ হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে, সকালে সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরে নিহত সাংবাদিকের বাড়িতে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান। এ সময় শিমুলের স্ত্রীকে চাকরি দেয়ার নিশ্চয়তা দেন তিনি।
সেইসঙ্গে নিহতের পরিবারকে এক লাখ টাকা অনুদান দেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, হত্যাকারী যতোই ক্ষমতাধর হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
প্রসঙ্গত: বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজাদপুরের আওয়ামী লীগ-সমর্থিত মেয়র হালিমুল হক মিরুর ছোট ভাই হাফিজুল হক পৌর শহরের কালীবাড়ি মোড়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের সমর্থক, কলেজছাত্ররা ও মহল্লার লোকজন একযোগে বেলা ৩টার দিকে মেয়রের বাসায় হামলা চালান। হামলাকারীদের লক্ষ্য করে হালিমুল হক মিরু তার শর্টগান থেকে গুলি ছোড়েন।
এসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন হাকিম। সংঘর্ষের সময় তার মাথা ও মুখে গুলি লাগে। তাকে প্রথমে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় আনার পথে তিনি মারা যান। গতকাল তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম শুক্রবার শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে মেয়র হালিমুল হক, তার দুই ভাইসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।