শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ফরিদপুর, মাগুরা, নাটোর ও সাতক্ষীরায় আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুরে যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষের ঘটনায় বাসে আগুন লেগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার গজারিয়া এলাকায় বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে হয়। সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই গাড়ির চালকসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ৩৫ জন।
আহতদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। দুর্ঘটনার পর রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
ভোর ৫টার দিকে মাগুড়া-যশোর মহাসড়কের মঘিরঢাল এলাকায় ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯ যাত্রী। আহতদের প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সবাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়। হতাহতরা গোয়ালন্দ চিনাপ্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা। তারা ভারতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
এদিকে, সকালে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া-হাটিকুমরুল সড়কের আইরমারী ব্রীজ এলাকায় পাবনাগামী একটি ট্রাক যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় মালামাল বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত ও ৭ জন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে।
সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাইসাইকেলে চরে স্কুলে যাওয়ার পথে ট্রলির ধাক্কায় আব্দুল গাফফার নামের এক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। নিহত স্কুল ছাত্র স্থানীয় পাইলট হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী।
এদিকে, ফরিদপুরে দুর্ঘটনায় নিহতদের বাড়ি নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায়। দুর্ঘটনার খবরে তাদের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে হানিফ পরিবহনের কাউন্টার খোলা হয়নি।