নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার দড়িকান্দি এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে রোববার ১২ জন মারা গেছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে নয় জন।
জানা গেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুজন শিশু রয়েছে। সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী ছিল। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায়।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জন মাইক্রোবাসের আরোহী, তিন জন বাসের আরোহী ও তিনজন পথচারী। তাদের মধ্যে বাস ও মাইক্রোবাসের আরোহীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনজন পথচারীকে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, অগ্রদূত পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। আর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মাইক্রোবাসটি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় যাচ্ছিল। দড়িকান্দি এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ১২ জন আরোহী নিহত হন।
দুর্ঘটনাস্থলে স্বপন মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, মাইক্রোবাসের নিহত আরোহীরা তার পরিচিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে তিনিও ঢাকা থেকে নিকলী ফিরছিলেন। তবে তিনি অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্করা শ্রমজীবী হিসেবে ঢাকায় কাজ করতেন। তারা অনেক দিন পর বাড়ি ফিরছিলেন।
মাইক্রোবাসটিতে ১৪ জন আরোহী ছিলেন। আরোহীদের এই সংখ্যা মাইক্রোবাসের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। এরইমধ্যে মহাসড়ক থেকে বাস ও মাইক্রোবাসটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোজাম্মেল হক ও বেলাবো উপজেলার ইউএনও উম্মে সালমা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়েছেন।
নরসিংদীর আজকের দুর্ঘটনার আগে গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর, গাজীপুর, মাগুরা, নাটোর ও রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয় অনেকে।
পুলিশের হিসাবে, গত তিন বছরে গড়ে দুই হাজার মানুষের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, ২০১৬ সালেই ৪ হাজার ৩১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬ হাজার ৫৫ জন। আহত হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার মানুষ। এর আগের বছর প্রাণহানি হয় আট হাজারের বেশি মানুষের।