মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামাত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব ছড়িয়ে বগুড়ায় চালানো তাণ্ডবের চার বছর আজ (শুক্রবার)। স্মরণকালের ভায়াবহ সেই তাণ্ডবে জড়িত জামাত-শিবিরের ৩ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হলেও আইনি নানা জটিলতায় বিচার শুরু হয়নি এখনও।
২০১৩ সালের ৩ মার্চ সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বগুড়ায় এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া হলে ভোরের আলো ফোটার আগেই জামাত-শিবিরের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নেমে আসে রাস্তায়। সাঈদীর মুক্তির দাবিতে তারা মিছিল করে বগুড়াশহর, জেলার শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, দুপাচাঁচিয়া, শেরপুর উপজেলা সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরেও।
শুরু করে তাণ্ডবলীলা— তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, সরকারি-অফিস আদালত ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়। ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা।
শাজাহানপুর থানা ঘেরাও করে সেখানে থাকা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় সেনাবাহিনী। সেই দিনের সেই তান্ডবের কথা মনে হলে আজও গা শিউরে ওঠে অনেকের।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন বিচার প্রক্রিয়া যতো বিলম্বিত হবে আগামীতে নাশকতামূলক তৎপরতাও ততো বাড়বে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও আইনী নানা জটিলতায় বিচার শুরু হয়নি এখনও।