তিস্তার বুক জুড়ে এখন শুধুই ধুধু বালুচর— এক সময়ের স্রোতস্বিনী তিস্তার পানি বর্তমানে এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে, চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যারাজ থেকে শুরু করে তিস্তার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পানি না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটে তিস্তা পাড়ের কৃষক। সেই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছে চর এলাকার হাজারো খেটে খাওয়া মানুষজন।
এদিকে, উজানের পাহাড়ি ঢল, আর বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার বিকেল থেকে তিস্তা নদীর পানি আকষ্মিক বৃদ্ধি পেয়েছে। নীলফামারী ও লালমনিরহাট অংশে তিস্তা নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও বগুড়া জেলার অনাবাদি জমি সেচের আওতায় আনতে নেয়া হয়েছিল তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প। সুফলও মিলেছিল। তিস্তার পানি ব্যবহার করে ধান, গম, ভুট্টা, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ঘরে তোলার সুযোগ হয়েছিল চাষীদের।
কিন্তু, সেই তিস্তায় পানি নেমে এসেছে ৫০০ থেকে ৪৫০ কিউসেকে। ফলে পানির অভাবে চাষাবাদ করতে পারছে না রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোবর্ধন, মহিষাখোচাঁ, কালমাটি, চরবৈরাতি, ভোটমারী, সানিয়াজানসহ চরাঞ্চলের মানুষ।
এদিকে, উজানের পাহাড়ি ঢল, আর বৃষ্টিপাতের কারণে মঙ্গলবার বিকেল থেকে তিস্তা নদীর পানি আকষ্মিক বৃদ্ধি পেয়েছে।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে নীলফামারী ও লালমনিরহাট অংশে তিস্তা নদীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় চরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে বন্যার পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।