অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার হাওরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সবকিছু হারিয়ে মৌলভীবাজারের হাওরবাসীর চোখে এখন অন্ধকার। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের। সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে জেলেরা মাছ ধরতে শুরু করেছেন। তবে জালে তেমন মাছ ধরা না পড়ায় বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
এদিকে, কিশোরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আগাম বন্যায় মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের ধানের ক্ষতির পর, হাওরবাসীর সম্বল মাছ ও হাঁসেও মড়ক লাগে। হাওর পারের ৩৫ হাজার কৃষক ও জেলে পরিবারে এখন চলছে হাহাকার। বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। অনেকেই সন্তানকে খাতা-কলম কিনে দিতে পারছেন না। পেটের তাগিদে স্কুল ছেড়ে শিক্ষার্থীরাও নেমে পড়েছে কাজে।
ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চলের অনেক জায়গাতেই এখনো কোন ত্রাণ পৌঁছায়নি। আর যেসব জায়গায় ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তা বিলি-বন্টনেও অনিয়মের অভিযোগ রয়ছে। এ অবস্থায় এলাকাটিতে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহয়াতা প্রদানের দাবি উঠেছে।
অধিক বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর মধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
সুনামগঞ্জের সবকটি হাওরের বন্যা পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা মাছ ধরতে শুরু করলেও, আগের মতো আর মাছ পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় জীবীকার তাগিদে জাল-নৌকা ছেড়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের খোঁজে বেরিয়েছেন তারা।
এদিকে, কিশোরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসুচি শুরু করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার বিকেলে হাওরের ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত চারশো কৃষকের মধ্যে ত্রাণ দেওয়া হয়। কিন্তু এসব ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এদিকে, পরবর্তী ফসল না তোলা পর্যন্ত কৃষকদের পাশে থেকে তাদের সহযোগিতা করে যাওয়ার কথা বলেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।