অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের সর্বত্র গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিনই হাওরাঞ্চলের পানি বাড়ছে। এদিকে, রোববার রাতে ঝড়ে আরো অবনতি হয়েছে সুনামগঞ্জের হারওরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির।
ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণবাহী নৌকা, সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে ৩৬০ বস্তা চাল নিয়ে শনিবার ভোররাতে ঢুবে গেছে। অবনতি হয়েছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আগাম বন্যায় মৌলভীবাজারের হাওরাঞ্চলের ধানের ব্যাপক ক্ষতির পরই, মড়ক লাগে হাওরবাসীর শেষ সম্বল মাছ ও হাঁসেও। এসব কিছু কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এখন নতুন করে সর্বত্র দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট।
এ অঞ্চলে গৃহপালিত গরু ও মহিষের অন্যতম খাদ্য বোরো ও আমন ধানের খড়। তবে এবার এ খড় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
গো-খাদ্যের অভাবে পশুগুলো ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ খড়ের অভাবে গবাদীপশু কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
মৌলভীবাজার সদর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হিদায়াতুল্লাহ বলেন,, গবাদীপশুর যাতে কোন ধরনের রোগ পাদূভার্ব না দেখা দেয় সে জন্য মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নজরদারী করা হচ্ছে।
এদিকে, রোববার রাতে ঝড়ে আবার নতুন করে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝড়ে বিধ্ধস্ত হয়েছে কয়েকশ বাড়ি।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মধ্যে ত্রানের বিতরণের চালের নৌকা ৩৬০ বস্তা চালসহ সুনামগঞ্জের সুরমা নদীতে রোববার ভোর রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে ঢুবে গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।
এদিকে, কিশোরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসুচি চলছে। তবে, অনেক জায়গাতেই এখনো কোন ত্রাণ পৌঁছায়নি।