দুর্যোগ যেন পিছু ছাড়ছে না হাওরের মানুষের— অকাল বন্যা আর কালবৈশাখীর ঝড়ে সব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা। মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবার মাছ ধরা শুরু হয়েছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনার হাওরের বন্যা পরিস্থিতি।
এদিকে সুমনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রতি অনুযায়ী সব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে না।
অকাল বন্যায় ফসল, মাছ হারিয়ে যখন দিশেহারা সুনামগঞ্জের হাওরের মানুষ, তখন রোববার রাতে কালবৈশাখীর ছোবলে লণ্ডভন্ড হয়ে যায় ওই এলাকা। মঙ্গলবারও সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনেক মানুষ। এখনো সেসব এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে শিগগিরই তাদের ত্রাণ দেওয়া হবে। এদিকে সোমবার রাতে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওরের পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি।
এদিকে, আজ বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করেন। তিনি এসময় ৯ দফা দাবিসহ সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান।
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে এক সপ্তাহ মাছ ধরা বন্ধ থাকার পর পানি দূষনমুক্ত হওয়ায় আবার মাছ ধরা শুরু হয়েছে। তবে, প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় হতাশ হাওয়ারে উভর নির্ভরশীল মৎসজীবীরা। ।
জেলা মৎস কর্মকর্তা জানিয়েছেন বর্তমানে হাকালুকির পানি সম্পূর্ণ দূষণ মুক্ত আছে। তাই জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে, মড়কের কারণে এখনো মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। পোনা অবমুক্ত করা হলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
কিশোরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসুচি চলছে। তবে, অনেক জায়গাতেই এখনো কোন ত্রাণ পৌঁছায়নি। অবনতি হয়েছে নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতিও।