ঝিনাইদহে আবারো জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী— সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের ২টি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে ডিনামাইট স্টিক, বোমা তৈরির সার্কিট বোর্ড, পটাসিয়াম ক্লোরাইডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। উদ্ধার করা হয়েছে দুটি সুইসাইডাল ভেস্টও।
এদিকে, অভিযান আজকের মতো স্থগিত ঘোষণা করেছে র্যা ব। পাশাপাশি অবস্থিত একতলা ওই বাড়ি দুটির মালিক সেলিম ও প্রান্ত নামের দুই ব্যক্তি।
সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধানহাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা গ্রামে সেলিম ও প্রান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তাদের বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে ফেলে র্যা ব। পরে খুলনা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বেলা এগারোটার দিকে অভিযান শুরু করে তারা। এতে র্যা বকে সহায়তা করে পুলিশ।
অভিযানে নামার পরপরই প্রান্তর বাড়ির পেছনের বাঁশ বাগানে পুঁতে রাখা অবস্থায় দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়। পরে সেলিমের বাড়ির পাশের বাগানের ২টি জায়গায় মাটি খুঁড়ে ২০টি ডিনামাইট স্টিক, ১৮৬ টি পিভিসি বোর্ড, চার বোতল পটাসিয়াম ক্লোরাইড, একটি এন্টি পারসোনাল মাইনসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে র্যা ব।
ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, সেলিম গত ৭ মে মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি তুহিনের ভাই, আর প্রান্ত তার চাচাতো ভাই। ৭ মে বজরাপুর গ্রামে তুহিনসহ দুইজন নিহত হয়।
সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় দুইটি পিস্তল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম। এছাড়া গত ৮ মে সদরের লেবুতলা গ্রামে একটি আস্তানা থেকে আটক করা হয় শামীম নামে এক নব্য জেএমবি সদস্যকে।
এছাড়া ২২ এপ্রিল পোড়াহাটি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে প্রচুর বিষ্ফোরক ও বিষ্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।