ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামে ঝড়ো হাওয়া, দমকা বাতাসসহ বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে শত শত গাছ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে জারি রয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও ভোলায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের সময় গাছ উপড়ে পড়ে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মারা গেছেন দুই জন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিনের দুই শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কক্সবাজারে প্রবল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সমুদ্রের উচ্চতা চার থেকে পাঁচ ফুট বেড়ে গেছে।
ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে লণ্ডভন্ড হয়ে গেছে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন এলাকা। বিধ্বস্ত হয়েছে দুইশরও বেশি কাঁচা ঘরবাড়ি। প্রবল বাতাসে ভেঙে গেছে গাছপালা।
ঝড়ের সময় গাছ উপড়ে পড়ে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মারা গেছেন দুইজন। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন। এসময় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় নিম্নাঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কক্সবাজারে বেশ কয়েকঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো।
ঘূর্ণিঝড় থেক রক্ষা পেতে উপকূলীয় এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু ভবনে আশ্রয় নেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় কক্সবাজারে ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে আসা লোকজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মোরা মঙ্গলবার বেলা পৌণে দুইটার দিকে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে। এর প্রভাবে সকাল থেকে চট্টগ্রামে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। রাতভর ঝ'ড়ো হাওয়ায় চট্টগ্রাম শহর ও উপকূলবর্তী এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে গাছ-পালা। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে মাছের ঘের।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে রাঙ্গামাটিতে কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় গাছ চাপা পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ভোলার মনপুরায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাবার সময় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তবে উপকূলী জেলাগুলোতে বিপদ কেটে গেলে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।